মধ্যবাড্ডায় আফরোজা হত্যা: গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড

প্রায় চার বছর আগের ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেডের এমআইএস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার আফরোজা সুলতানা হত্যা মামলায় গাড়িচালক হৃদয় বেপারী ওরফে হৃদয় মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী সাজার তথ্য জানান।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরে জহিরুল ইসলাম জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থাকা হৃদয়কে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বিচারকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমি এই রায় মানি না।’

পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ থেকে, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার নিজ ফ্ল্যাটে আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দিন ১৪ মার্চ নিহতের ভাই মো. আল মজিদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের এসআই মো. রিপন উদ্দিন তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তদন্তে উঠে আসে, হৃদয় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হেরে যায়। জুয়ার দেনা মেটাতে এবং অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকালে ভুক্তভোগীকে একা পেয়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আসামির আজ সাজার রায় এলো।