কারাগারের আসামি জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো বন্ধে আইনি নোটিশ

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৬৭এ ধারার অধীনে শ্যোন অ্যারেস্ট পদ্ধতির অপব্যবহারের মাধ্যমে আদালতের দেওয়া জামিন কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং তিন আইনজীবী- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার, মো. মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমালের পক্ষে নোটিশটি প্রেরণ করেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশে জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার নজির রয়েছে। পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।

অথচ আইনের সাধারণ নীতি হলো, ‘জামিনই হবে নিয়ম, কারাবাস হবে ব্যতিক্রম।’

এতে বলা হয়, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুনরায় হেফাজতে রাখে।

এতে আদালতের দেওয়া জামিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং বিচারপ্রার্থীদের সংবিধান-স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে কার্যবিধিতে ১৬৭এ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনও মামলায় ইতিমধ্যে হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন তখনই ম্যাজিস্ট্রেট অনুমোদন করতে পারবেন, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার অনুলিপিসহ আদালতে হাজির করা হবে, তাকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং আদালত আবেদনটিকে যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন বলে সন্তুষ্ট হবেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেফতার ও আটক-সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং চলাফেরার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এসব সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় শ্যোন অ্যারেস্ট পদ্ধতির অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

তাই উক্ত নোটিশ পাওয়ার ৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।