রেস্তোরাঁয় ‘গোপন বৈঠক’, আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী রিমান্ডে

রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ‘গোপন বৈঠক’ করার অভিযোগে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয় নেতাকর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), মো. নান্নু মিয়া (৩৮), মো. আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই কে এম মফিজুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতা। তারা দীর্ঘদিন ধরে গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘চৌগাছা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বারবার নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। তার বোনের দুই কিডনিতে সমস্যা। ডাক্তার দেখাতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি ১০ মাস জেলে ছিলেন। তার আর কোনও মামলা নেই। তিনি কোনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন না। বাকি আসামিদের কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী। মামা-ভাগনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের রেস্তোরাঁ থেকে ধরে এনেছে। মেহেদী মাসুদ, আলিফসহ অনেকে অসুস্থ। রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিনের আবেদন করছি।’

শুনানি শেষে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে গুলশানের পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণে বলা হয়, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলশানের পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁয় একত্রিত হয়ে ‘নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ’ করাসহ গুলশান থানা ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের সভা করছিলেন।

এ ঘটনায় পুলিশ গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে।