মোমিন মেহেদী-শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

শুনানিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে নতুন ধারা বাংলাদেশ। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। তারা ঘটনার সাথে জড়িত না। জামিনের প্রার্থনা করছি।’

মামলার অপর আসামিরা হলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।

গত মঙ্গলবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এই ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। শান্তা ফারজানা ঢাকা মেডিকেলে প্রবেশ করার পর তারেক রহমানকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং জুলাই আন্দোলনকে জঙ্গী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে। শান্তা ফারজানা, মোমেন মেহেদী ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে এসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেয়। শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করে। জুলাই পরবর্তী নবগঠিত বিএনপি সরকারকে উৎখাত করার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে মাদকাসক্ত, নেশাখোর বলে কটাক্ষ করে।

এতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল দিয়ে তাদের নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্য জনসম্মুখে কালো আইন বাতিল, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান। এতে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।

এতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে। পরে স্বল্প সময়ের জন্য সেবা চালু হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তা আবারও ব্যাহত হয়।