ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী ব্যাংকের পক্ষে অভিযোগটি দুদকে জমা দেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা বৃদ্ধি ও পরবর্তী সময়ে সেই ঋণের অর্থ উত্তোলনের ঘটনা।
ইসলামী ব্যাংকের দাবি, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সুপ্রভ কম্পোজিট নিটের ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। ব্যাংকের অভিযোগ, যথাযথ আর্থিক যাচাই ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন ছাড়াই এই সীমা বাড়ানো হয়েছিল।
পরে বর্ধিত ঋণসীমার বিপরীতে অর্থ উত্তোলন করা হয় এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকটি সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ভূমিকা ছিল।
একই ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের নামও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এছাড়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মাওলা, আবদুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও ব্যক্তির ভূমিকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের দাবি, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের ভাষ্য, এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ঋণসীমা বৃদ্ধি, ঋণ অনুমোদন এবং অর্থ বিতরণের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক অবস্থা ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কিনা—সে প্রশ্ন তুলেছে ব্যাংক।
একই সঙ্গে বর্ধিত ঋণের অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তা তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে দুদককে।
ব্যাংকটির অভিযোগ, ঋণের অর্থ এমন কোনও খাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে, যা ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থের পরিপন্থি। এই কারণে পুরো ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।