‘গুলি করি, মরে একটা’ বলা সেই পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্যে যা ঘটছে

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের তৎকালীন উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইনের। সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে এবার সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে আন্দোলনের সময় গুলি চালানো বা ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় নয়, দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভাগীয় তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি।

পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো চূড়ান্ত গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

যে বক্তব্যে আলোচনায় আসেন ইকবাল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর পরিস্থিতি বর্ণনা করতে দেখা যায়।

৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার ওই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

আরও চার কর্মকর্তার বিষয়ে প্রক্রিয়া

ইকবাল হোসাইন ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রাজন কুমার দাস।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।