প্রধানমন্ত্রীর সই জাল করে প্রতারণা, গ্রেফতার ৬ আসামি রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিল, সই ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি এবং প্রতারণার অভিযোগে রমনা মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মন্ডল ও রফিকুল ইসলাম।

গত ৪ অগাস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরের পাঙ্গাশিয়া থেকে ফারুক ও সাকিবকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে রাতেই মাসুম ও তৌহিদুলকেও কালকিনি পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার সদর থানার সদর হাউজিং এলাকা থেকে বকুলকে এবং পরে রফিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ৫ অগাস্ট তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৭ অগাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইমের এসআই মো. সামিম সরদার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার (১২ আগস্ট)। এদিন শুনানিকালে তাদের কারাগার থেকে  আদালতে হাজির করা হয়।

এসআই শাহ আলম বলেন, ‘আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর   বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি খামে সাত পাতার ডকুমেন্ট পাঠানো হয়। সেই খামে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সই সংবলিত ডকুমেন্টস ছিল। নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়।

সেই চিঠির সূত্র ধরে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও সই ব্যবহার করে ভুয়া নথি তৈরির বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সিল, সই ও অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

এ ঘটনায় গত ৫ অগাস্ট  ডিবি পুলিশের এসআই  রায়হানুর রহমান বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন।