২০ বছর আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সানাউল্লাহর ৯ স্বজন খালাস পেয়েছেন।
সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ সাজার তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তারা খালাস পেয়েছেন।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন– আলী হোসেন, নান্টু মিয়া, নূর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম, আ. খালেক।
রায় ঘোষণার আগে সানাউল্লাহ ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা বেগম পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসামিরা যৌতুকের জন্য পিংকিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ২০০৬ সালের ২ মে অপর আসামিরা সানাউল্লাহর কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাটের বাসায় গিয়ে জানতে চায়, শ্বশুড়বাড়ি থেকে কী কী জিনিস পেয়েছে। ৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানায় সানাউল্লাহ। অন্য কোনও মালামাল না পাওয়ায় তারা সানাউল্লাহকে পরামর্শ দেয় পিংকিকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার। তাদের প্ররোচনায় পিংকিকে যৌতুকের জন্য মারধর করে সানাউল্লাহ। গরম পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পিংকির ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অন্তঃসত্ত্বা পিংকি।
এ ঘটনায় পিংকির মা রাবিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লহকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। মামলার বাদী এতে নারাজি দাখিল করেন। পরে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় এলো।