ঢাকার আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কামরুল খানকে (৪৪) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে একটি বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই কক্ষের দরজা ভেঙে কামরুলের পচন ধরা গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইমসিন দল ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। কামরুল খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পরদিন নিহতের মামাতো ভাই জামিল শেখ আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, কামরুলের সঙ্গে তার এলাকার পরিচিত আল–আমিনের যোগাযোগ ছিল। পরে পিবিআই খুলনার সহায়তায় ১৭ আগস্ট তেরখাদা থেকে আল–আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহত কামরুলের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আল আমিনের কাছ থেকে কামরুলের মুঠোফোন উদ্ধারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার ওই কক্ষের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, ওই ছুরি দিয়েই কামরুলকে হত্যা করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাতে পিবিআই জানায়, কামরুল ও আল আমিন ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। গত ৮ আগস্ট রাজমিস্ত্রির কাজের খোঁজে তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন। পরে ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
১৪ আগস্ট রাতে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার একটি ছুরি নিয়ে আল আমিনকে আঘাত করতে গেলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় আল আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
হত্যার পর কামরুলের মরদেহ কক্ষের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আল আমিন খুলনায় চলে যান। হত্যার আলামত গোপন করতে ছুরিটি বাথরুমের প্যানের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই।