দোকানে অস্ত্র রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ধরা পড়লেন নিজেরাই

রাজধানীর সূত্রাপুরে একটি মোটর পার্টসের দোকানে অস্ত্র রেখে পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুই রাউন্ড ১২-বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিতসুবিশি পাজেরো গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—ব্যারিস্টার মো. জাকি উল্ল্যাহ বাহার (৫৮), মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন লিটন (৪৮), হিরু বড়ুয়া ওরফে বাবু (৩৬) এবং সরদার সাইদুর রহমান তুহিন (৪৭)।

সূত্রাপুর থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিএমপির এডিসি (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তুরাগ থানার দিয়াবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সূত্রাপুর এলাকার ভিক্টোরিয়া পার্কসংলগ্ন নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটে অভিযান চালায়। এ সময় সূত্রাপুর থানার টহল পুলিশও অভিযানে সহায়তা করে।

পুলিশ সদস্যরা অভিযান শেষে ‘ভূঁইয়া মোটরস’ নামের একটি দোকান থেকে বের হওয়ার সময় মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি দোকানের ভেতরে দুটি কার্টন রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিষয়টি দোকানের কর্মচারীরা পুলিশকে জানালে কার্টন দুটি তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুই রাউন্ড ১২-বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মুখোশধারী ব্যক্তিরা মার্কেটের ‘টয়োটা প্লাস’ নামের আরেকটি দোকান থেকে কার্টন দুটি সংগ্রহ করে ‘ভূঁইয়া মোটরস’-এ রেখে যায়। সাদা রঙের একটি মিতসুবিশি পাজেরো গাড়ি থেকে কার্টন দুটি নামানো হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মার্কেটের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো এবং পুলিশি হয়রানিতে ফেলতে এই সাজানো তল্লাশির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অস্ত্র মামলা করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।