ঢাকার আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় আরেক নারীর হয়ে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরার অভিযোগের মামলায় হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন নামে এক আইনজীবী আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তার জামিনের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।
২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে এক সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ধার্য দিন ছিল গত ১৬ জুন। সে দিন আসামি আদালতে হাজির হননি।
ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তী শুনানির দিন রাখেন ২০ অগাস্ট।
তবে ২৫ জুন আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। পরে ধরা পড়েন মনোয়ারা এবং থানা পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু ওইদিন রাতেই নাসরিন সিকদার, তার হয়ে আদালতে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরা মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার হয়ে মনোয়ারা বেগম কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে গত ৩০ জুন উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। জামিনের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় সোমবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চান এ আইনজীবী। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানিতে বলা হয়, গত ২৫ জুন এ আইনজীবী হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে কে বা কারা তার নামীয় সিল ব্যবহার করে প্রক্সি আসামি আত্মসমর্পণ করেন। তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি ঘটনার দিনে হাইকোর্ট বিভাগে অবস্থান করছিলেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।
শুনানি নিয়ে আদালত পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত তার জামিনের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নাসরিন সিকদারের মামলাটি ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে বিচারাধীন। ২৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মনোয়ারা বেগম প্রকৃত আসামি পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। শুনানিকালে তার নাম-ঠিকানা ও মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সঠিকভাবে বলতে পারেনি।
আদালতের সন্দেহ হলে তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নথিপত্র, পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, ওই নারী প্রকৃত আসামি না এবং মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। নাসরিন সিকদার ও হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মনোয়ারাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত আসামি সাজিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে প্ররোচিত করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার নথিভুক্ত ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখেছেন এবং ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মামলা পরিচালনার ক্ষমতা তার নেই।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, বিচারিক কার্যধারায় প্রতারণামূলকভাবে অন্যের রূপ ধারণ করে আসামিরা মূল্যবান জামানত জাল-জালিয়াতি করেছে।