ঢাকার সবুজবাগে সুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী নামে এক তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধারের মামলায় তার বান্ধবীসহ দুই জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর চার আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খুনের কারণ উঠে এসেছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯) ও কবির হোসেন (১৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), সুজন (২০), মামুন (২০), রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯) ও রকিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ। একই আদালত থেকে অপর চার আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
যোগাযোগ করা হলে এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে খুনের ঘটনা। সাহিদার স্বামীর সঙ্গে ফালানী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সাহিদা জেনে যায়। ঘটনার দিন অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলে শাহিদা। পরে সঙ্গে সঙ্গে খুন করে ফালানীকে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির গরুর খামার লাগোয়া সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে দেহাংশটি সুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ১৯ বছর বয়সী ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।
ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফালানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), সুজন (২০), মামুন (২০) ও রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পিকে (১৯) গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে গত ৫ আগস্ট খিলগাঁও থানা পুলিশ রকিকে গ্রেফতার করে, যিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ ফালানী হত্যার সঙ্গে রকির সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেফতার দেখাতে রবিবার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।
সোমবার শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আরেক আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
আর কবিরকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।