রংপুরে ৪ খুন: যা বলছে আসকের পর্যবেক্ষণ

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করেছে। সংস্থাটি বলছে, ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ঘটনাক্রম এবং প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আসক এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, গত ২০ আগস্ট দিবাগত রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। ২২ আগস্ট রাতে স্বজনদের উদ্যোগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ঘটনাক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেয়। তবে পুলিশের সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু প্রশ্ন ও অসংগতি সামনে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে আসকের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ২৪ ও ২৫ আগস্ট রংপুরে সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করে। তারা নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশ, থানা কর্তৃপক্ষ, মর্গ ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

স্বজনদের বক্তব্যে যে তথ্য

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী আসক প্রতিনিধিদের জানান, ২০ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তার বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তবে পরদিন তিনি দেখতে পান, রাত ২টা ৪০ মিনিটে তার বোনের নম্বর থেকে তাকে একটি ফোন করা হয়েছিল। তিনি সেই ফোন ধরতে পারেননি।

পূজার বক্তব্য অনুযায়ী, তার বোন সাধারণত এত রাতে তাকে ফোন করতেন না। ফলে ওই ফোনকলটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভোরের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখে ফেললে তাদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একে একে হত্যা করা হয়।

আসক বলছে, রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতার নম্বর থেকে করা ফোনকলটি এই সময়রেখার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ওই কলটি কে করেছিলেন, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, তখন মোবাইল ফোনটি কোথায় ছিল এবং পরে পরিবারের সদস্যদের ফোনগুলো কখন বন্ধ হয়—এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

২২ আগস্ট রাত ৮টার কিছু পরে পূজা চক্রবর্তী তার বোনের নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পান। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি স্বামীকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান। বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

পূজার বক্তব্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে, প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ একটি কক্ষের এক কোণে। ঘরের আসবাব, জামাকাপড়, গয়নাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আসক প্রতিনিধিদের জানান, গ্রেফতার দুই ব্যক্তি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নিহতদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে গেলে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দেন। পুলিশের ধারণা, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলেও পুলিশ জানায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেন, খাবার খান এবং পরে পরিস্থিতি অনুকূল হলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তের সূত্র ও আলামতের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাধীন ও বস্তুগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করে আসক। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা যদি ওই বাড়িতে অবস্থান করে থাকেন, খাবার খেয়ে থাকেন বা গোসল করে থাকেন, তাহলে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ঘরের বিভিন্ন স্থান, বাথরুম, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা, আসবাবসহ স্পর্শকাতর স্থান থেকে ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, ত্বকের কোষ, চুলসহ সম্ভাব্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রমের সঙ্গে এসব পরীক্ষার ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তের অগ্রগতি ও ডিবির বক্তব্য

আসক প্রতিনিধি দল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানান, ঘটনার বিভিন্ন দিক ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশের ব্যাখ্যায় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি সম্ভাব্য সিসিটিভি ক্যামেরায় উপস্থিতি ধরা পড়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও ডিবির পক্ষ থেকে আসক প্রতিনিধিদের জানানো হয়।

তবে বিদ্যুৎসংযোগ কেন, কখন এবং কে বা কারা বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, এর সঙ্গে সিসিটিভি বা হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এসব বিষয়ও প্রযুক্তিগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করে আসক।

অভিযুক্তদের পরিবারের বক্তব্য

সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস তার ছেলের গ্রেফতার এবং ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্নের কথা আসক প্রতিনিধিদের জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং পুলিশে নেওয়ার সময় তার ছেলের পোশাকসহ কিছু বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

গ্রেফতার মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাসও তার ছেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার আরেক তরুণ সীমান্ত চন্দ্র দাসের বাবা-মায়ের সঙ্গেও আসক প্রতিনিধি দল কথা বলে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত ঘটনার রাতে বাড়িতে ছিলেন এবং ওই রাতে সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময়ের জন্য তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তিনি সেখানে রাতযাপন করেননি বলে তারা জানান। এসব বক্তব্যও অন্যান্য তথ্য ও আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মর্গ ও ময়নাতদন্তসংক্রান্ত তথ্য

আসক প্রতিনিধি দল মর্গের ইনচার্জ সাহেব আলী এবং ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোম যতন কুমারের সঙ্গে কথা বলে। যতন কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো পচনশীল অবস্থায় ছিল। তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখেননি; তবে শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তার মনে হয়েছে।

নিহত দুই নারীর শরীরে যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত তার চোখে পড়েনি বলেও তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আসক বলছে, মর্গের কর্মীর পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মতামত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মৃত্যুর কারণ, আঘাতের ধরন, যৌন সহিংসতার কোনও আলামত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তের জন্য ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনই বেশি নির্ভরযোগ্য।

মামলা ও তদন্ত

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম নাজমূল কাদের আসক প্রতিনিধিদের জানান, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে আটক দুই ব্যক্তিকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তদন্তের স্বার্থে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

আসক বলছে, একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ঘটনাক্রম এবং প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত জরুরি।

পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যার সঙ্গে নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় নাগরিক ও গণমাধ্যমে উত্থাপিত কিছু প্রশ্নের যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করতে বস্তুগত, ডিজিটাল ও ফরেনসিক আলামতের বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

বিশেষ করে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর নম্বর থেকে রাত ২টা ৪০ মিনিটে তার বোন পূজার কাছে করা ফোনকলটি তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। ওই সময় ফোনটি কে ব্যবহার করছিলেন, কলটির স্থায়িত্ব কত ছিল, ফোনটির অবস্থান কোথায় ছিল এবং এরপর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন কখন বন্ধ হয়—এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, খাবার খান এবং গোসল করেন। এমন দাবি সত্য হলে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাথরুম, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, বিছানা, পোশাকসহ সংশ্লিষ্ট স্থান ও বস্তু থেকে ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, ত্বকের কোষ, চুলসহ সম্ভাব্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না এবং তার ফলাফল কী—তা তদন্তে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

আসক আরও বলছে, অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়িত হবে। তবে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনে কেবল স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন ও বস্তুগত আলামত, ডিজিটাল তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইলস, ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে সিসিটিভি, অভিযুক্তদের চলাচল এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, তা প্রযুক্তিগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

মর্গসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা দূর করার জন্য ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশ করা জরুরি।

নিহত পরিবারের স্বজনরা পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা নিয়ে যেসব প্রশ্ন ও উদ্বেগ জানিয়েছেন, সেগুলোকে অমূলক বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে উড়িয়ে না দিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে পুলিশ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেটিও স্বাধীন আলামতের ভিত্তিতে যাচাই হওয়া জরুরি।

তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর হওয়ায় ঘটনাটির সব দিক নতুন করে, নিরপেক্ষভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা সম্ভাব্য ঘটনার সূত্র যেন পূর্বধারণার কারণে তদন্তের বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আসক।

সংস্থাটি মনে করে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বস্তুগত ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে পুলিশের ব্যাখ্যাগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সে বিষয়ে যথাযথ সময়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। এতে তদন্তের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সন্দেহ ও বিভ্রান্তিও কমবে।

সার্বিকভাবে আসকের প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে, রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর ও নৃশংস। পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা জানিয়েছে। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য, সময়রেখা, হত্যার পদ্ধতি এবং হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের কথিত কর্মকাণ্ডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষ করে রাত ২টা ৪০ মিনিটের অস্বাভাবিক ফোনকল এবং হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বাড়িতে অবস্থান, খাবার খাওয়া ও গোসল করার পুলিশের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনও ফরেনসিক ও ডিজিটাল আলামত পাওয়া গেছে কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।