হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব কাজী সজিবের (৩১) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামির আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮/এজেএস ফ্লাইটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কাস্টমস, এনএসআই, ডিএফআই ও সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, তল্লাশির সময় বিমানের ক্যাবিনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন সজিব। জুনিয়র সিকিউরিটি অফিসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তার শরীরে লুকানো স্বর্ণের বার দৌড়ে গিয়ে বিমানের ক্যাবিনে ফেলে দেন। পরে ওই প্যাকেট উদ্ধার করে ধূসর রঙের কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ১২০টি স্বর্ণের বারের ওজন ১৩ হাজার ৯৯২ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ১৪ কেজি। এগুলো ২৪ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণ এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
সজিব বরগুনার আমতলী থানার কাছুবানিয়া গ্রামের ফিরোজ কাজীর ছেলে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি(১)(বি)/২৫ডি ধারায় মামলা করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, সজিব একটি আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। চক্রটির মূল হোতা ও অন্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের জন্য সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ড প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।