শাহজালালে বিস্ফোরক শনাক্তে বসেছে ২৫ ডিটেক্টর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে ২৫টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নাকটেক টিআর ২০০০ ডিসি এই ডিটেক্টর ডিভাইসগুলো বসিয়েছে। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

তিনি জানান, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যন্ত্রটির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হয়। 

বেবিচক সূত্র জানায়, নাকটেক টিআর২০০০ ডিসি একটি আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি, যা অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদক জাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্তকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে। একই সঙ্গে এটি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।” 

তিনি আরও বলেন, “ইটিডি স্থাপনের ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও সুসংহত হয়েছে।”