চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে শহীদ-আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন মোট ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান। রায়ে এ মামলায় পলাতক সাত জনকেই মৃত্যুদণ্ডসহ আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
আসামিদের মধ্যে সাদ্দাম-ইনান ছাড়া বাকি পাঁচ জনের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে বলা হয়, ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ ও নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।