অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাকৃতররা হলেন—সজীব দে (৩৭) ও মো. মাসুদ রানা (৩০)।
সিআইডি জানায়, তাদের সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত করা হতো।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন দোকানের তথ্য ব্যবহার করে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে দোকান না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) উদ্যোক্তা সিম বা অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহার করত।
এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হতো বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহারে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।