স্বাস্থ্যগত কারণ ও বয়স বিবেচনায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে নিয়মিত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের প্রকাশিত রায়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ৭৬ বছর বয়সী কাজী হাবিবুল আউয়াল বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। তার বয়স, শারীরিক অবস্থা ও মামলার সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় আদালত তাকে জামিনের উপযুক্ত মনে করেছেন।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এবং পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার শর্তে এ জামিন কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আদালতে হাবিবুল আউয়ালের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তার সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, সারা হোসেনসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুল করিম মণ্ডল।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা হাইকোর্টকে জানান, কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য। এছাড়া পেনাল কোডের ১২৪ক (রাষ্ট্রদ্রোহ) ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ মামলায় তা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে বলে, আসামির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার বা দেশত্যাগের আশঙ্কা রয়েছে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এবং মামলার তদন্ত শেষ হতে সময় লাগার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আদালত কাজী হাবিবুল আউয়ালের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ম্যানিপুলেশন ও ভোট চুরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অভিযোগে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান (পিপিএম) শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ছাড়াও বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিগত তিনটি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৫ জুন হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে অধস্তন আদালতে দফায় দফায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে জামিন বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।