মোহাম্মদপুরের ‘চিহ্নিত চাঁদাবাজ কাইল্ল্যা ফারুক’ সহযোগীসহ গ্রেফতার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জ এলাকার ‘চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত ফারুক ওরফে ‘কাইল্ল্যা ফারুক’কে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চাপাতিসহ গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২। এ সময় তার সহযোগী মো. ইসমাইল হোসেন ডালিমকেও গ্রেফতার করা হয়।

কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি-২। সংস্থাটি বলছে, ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার মাদক কারবারিদের গডফাদার ছিলেন কাইল্ল্যা ফারুক।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।

তিনি বলেন, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, কাইল্ল্যা ফারুক কলাতিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফারুক ও ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবি-২ জানায়, কাইল্ল্যা ফারুকের বিরুদ্ধে বসিলা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চন্ডীপুর এলাকায় স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জিম্মি করে চাঁদা দাবি এবং মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বসিলা ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর-তরুণদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, জোরপূর্বক জমি দখল করে বালু ভরাট এবং মাদক কারবারিদের গডফাদার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নয়মুল হাসান বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং দাঙ্গা, গুরুতর আঘাত, বলপূর্বক গ্রহণ, খুনের উদ্যোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আরও দুটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সিআর মামলা রয়েছে।

অস্ত্র আইন এবং স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে চাঁদাবাজির ঘটনায় আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, কাইল্ল্যা ফারুককে মাদক কারবারিদের গডফাদার হিসেবে বলা হয়েছে; কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার বলা হয়নি।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আহত করার ঘটনায় কাইল্ল্যা ফারুক জড়িত ছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এসআরবি অধিনায়ক বলেন, ওই ঘটনায় ফারুক সেখানে ছিলেন।

গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।