২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শরীরে প্রায় ১৫০টি ছররা গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে যায় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন গ্রিল শ্রমিক নবী হোসেন সজীব। তার দাবি, চিকিৎসকরা শরীর থেকে ২৫টি ছররা গুলি বের করতে পারলেও মেরুদণ্ডে গেঁথে থাকা একটি স্প্লিন্টার এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নবী হোসেন। জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে নবী হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। মেরুল বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষকে আহত হতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর রোডে বিক্ষোভে যোগ দেন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পরে প্রধান সড়কে চলে যান। তার ভাষ্য, সেখানে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র্যাবের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ সময় ছররা গুলিতে তিনি আহত হন এবং তার সামনে আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করেন।
নবী হোসেন জানান, প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার চিকিৎসা হয়। সিএমএইচের চিকিৎসকরা শরীর থেকে ২৫টি ছররা গুলি বের করতে সক্ষম হলেও পিঠের হাড়ে গেঁথে থাকা আরেকটি স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালের সামনে শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকা ছররা গুলির চিহ্নও দেখান নবী হোসেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ জুলাই গুলিবর্ষণের সময় আহত আন্দোলনকারীদের রিকশা ও ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে সহায়তা করেন। রাস্তায় রক্ত দেখে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে বমি করেন বলেও জানান।
এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে দায়ী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নবী হোসেন।