রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার ১৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন মাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।
তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের ভর্ৎসনা
রিমান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন আদালত।
শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, আসামি আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রলীগের নেতা। অথচ তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে তাকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বিচারক জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কীসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা। যা তা লিখে পাঠিয়ে দেন।’
আসামিদের গ্রেফতারের তারিখ জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন তারিখে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করায় বিচারক বলেন, ‘কবে গ্রেফতার, সেটা নির্দিষ্ট করে লেখা যায় না? গড়গড়িয়ে রিমান্ড চান, আর গড়গড়িয়ে রিমান্ডে নেন।’
আরেক আসামি সাইফুল ইসলামকে কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থেকে গ্রেফতারের কথা জানান। তবে কবে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা বলতে পারেননি। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাজের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ মানুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
এসআই মোক্তার হোসেন জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে যাওয়া ১৫ জনকে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করে।
শুনানি শেষে আদালত ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।