রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এর কার্যালয়ে মধ্যরাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ সংস্থাটির।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদি হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়া (৫০) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে
বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা বলছে, হামলায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পরে হামলাকারীরা জমিতে সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেডের’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, রাড্ডার ওই ১০ কাঠা জমি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সে কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই জমি দখলের জন্য হামলা চালানো হয়।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গরিব, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। এটি এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এই সেন্টারে যা ঘটেছে তা নিছক কোনো ডাকাতি বা হামলা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে সেন্টারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জনের অধিক একটি সন্ত্রাসী দল নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই বর্বর হামলায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
সংস্থার অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগামীকাল শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে ক্লিনিকটিতে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই প্রতিষ্ঠানটি দখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্তসহ আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
তবে হামলার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে মিরপুরের বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িতই না। আমি জানিই না, সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম আবার কে দিলো মামলায়?’ এ বিষয়ে থানায় খোঁজ নেবেন বলেও জানান তিনি।