কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি রবিবার

কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন থাকলেও ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও শহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।

প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির কথা ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় শুনানি পিছিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়। তার আগে ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে গ্রেফতার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেও অন্যরা আত্মসমর্পণ করেননি। ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।