বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা: ১৯ বছর পর আসামির মৃত্যুদণ্ড

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাভারের আশুলিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর আসামি রেজাউল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ৩য় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা ও পিতৃহারা এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল ইসলাম। ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি সেই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রেজাউল ওই শিক্ষার্থীর ঘরে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর খালাতো ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৪ জুলাই আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আ. আলিম রেজাউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রেজাউল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

মামলার আসামি রেজাউল ইসলাম এর আগে জামিনে গিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে তার সাজা কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।