ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) সাবেক পরিচালক মো. নওশেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৮ লাখ ৯১ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নওশেরুল ইসলাম আইএলএফএসএলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সম্পদের উৎস, আয় ও ব্যয় যাচাই করতে গিয়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন বিনিয়োগের তথ্য পর্যালোচনা করে দুদক।
অনুসন্ধানে তার জমি, বাড়ি ও ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ, কোম্পানির শেয়ার, এফডিআর, ডিপিএস, বীমা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য যাচাই করা হয়। পাশাপাশি বেতন, ব্যবসা, কৃষি, বাড়িভাড়া, ব্যাংক সুদ, জমি বিক্রি ও বীমা থেকে পাওয়া অর্থসহ তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎসও যাচাই করা হয়।
দুদক বলছে, নওশেরুল ইসলামের মোট সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের হিসাব বাদ দেওয়ার পর প্রায় ৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এই অর্থকে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া দুদকের কাছে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নড়াইলে একটি ভবন নির্মাণে ঘোষিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং ঢাকার গ্রিন রোডে একটি ফ্ল্যাটে বিনিয়োগসহ কয়েকটি খাতে ঘোষিত তথ্যের সঙ্গে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতির সমন্বিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
অনুসন্ধান শেষে নওশেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করেন দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান। পরে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের অনুমোদন দিলে বুধবার মামলাটি করা হয়।