রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. জেহাদ হোসেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির পক্ষে কোনও জামিন আবেদন করা হয়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের এবং সোমবার আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের নামে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন বিষয়ে এক ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায়।
প্রচারিত অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন বলেও ওই ব্যক্তিকে দাবি করতে শোনা যায়। এ ছাড়া পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তারই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে কমিটির সদস্যরা রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি।
পরবর্তী সময়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।