শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় সেই গৃহকর্তা কারাগারে 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ১৭ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গৃহকর্তা মো. নাসিরুল হক সিদ্দিকির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তার স্ত্রী শাহনাজ সিদ্দিকির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ইলামনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ফোরকান মিয়া জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নাসিরুল হক সিদ্দিকির জামিন আবেদন নামঞ্জুর এবং শাহনাজ সিদ্দিকির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী গত তিন বছর ধরে ধানমন্ডি থানাধীন ৪/এ নম্বর রোডের ৪৫ নম্বর বাসার ৪/ডি নম্বর ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ওই বাসার বাসিন্দা নাসিরুল হক সিদ্দিকি ও তার স্ত্রী শাহনাজ সিদ্দিকি।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নাসিরুল হক সিদ্দিকি দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে আসছিলেন। অন্যদিকে, শাহনাজ সিদ্দিকি বিভিন্ন সময় তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।

এতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট রাতে শাহনাজ সিদ্দিকি তার বোনের বাসায় বেড়াতে গেলে বাসায় একা থাকা অবস্থায় নাসিরুল হক সিদ্দিকি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে এক গৃহকর্মী মোছা. জামিলার (১৯) সহায়তায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ভুক্তভোগী গৃহকর্মী জাতীয় ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানাকে বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর ধানমন্ডি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর ধানমন্ডি থানার নারী এসআই (নিরস্ত্র) মোছা. জেনাতুল ফেরদৌসী অভিযান চালিয়ে নাসিরুল হক সিদ্দিকি ও শাহনাজ সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নাসিরুল হক সিদ্দিকির জামিন নামঞ্জুর এবং শাহনাজ সিদ্দিকির জামিন মঞ্জুর করেন।