চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৫২ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে হত্যা করা হয়েছে ৫২ জন নারী ও কন্যাকে। এছাড়া রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও দুটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসের নারী ও কন্যা নির্যাতনের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৪৯ জনের মধ্যে ৩০ জন কন্যা এবং ১৯ জন নারী। তাদের মধ্যে দুই কন্যাসহ নয়জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে চার কন্যাকে। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন একজন কন্যা। এছাড়া ১১ কন্যাসহ ১৩ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
একই মাসে বিভিন্ন কারণে ১৩ জন কন্যা ও ৩৯ জন নারীসহ মোট ৫২ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময়ে একজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ জন কন্যা ও ৩৪ জন নারীসহ ৪৫ জনের রহস্যজনক মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে মহিলা পরিষদ।
যৌন সহিংসতার ঘটনাও ছিল উল্লেখযোগ্য। সেপ্টেম্বরে ১২ কন্যাসহ ২২ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে আট কন্যাসহ ১২ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। চার কন্যাসহ সাত জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন তিন জন।
মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে চার কন্যাসহ ১৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে একজন আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছেন দুজন, যার মধ্যে একজন কন্যা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
এ ছাড়া যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আট জন। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাত জন, যাদের মধ্যে একজন কন্যা। একজন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে সাত কন্যাসহ আট জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন কন্যাসহ ১৪ জন। একজন কন্যার বাল্যবিবাহ হয়েছে এবং সাত জনের বাল্যবিবাহের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া একজন কন্যাসহ আট জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।