পাসপোর্টে বাবার পরিচয় পাল্টে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৪

পাসপোর্টে বাবার পরিচয় পরিবর্তন করে দুই তরুণকে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে তাদের কুয়ালালামপুর যাওয়ার কথা ছিল।

আটক চারজন হলেন- মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ শাবুর মিয়া, আতিকুর রহমান ও নাজমুল ফকির অপু। তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়া বয়স্ক এবং আতিকুর রহমান ও নাজমুল ফকির অপু তরুণ।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চারজনের বোর্ডিং পাসে রাত ৮টায় বোর্ডিংয়ের সময় উল্লেখ ছিল। তাদের আসনও ছিল পাশাপাশি ১০ নম্বর সারিতে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় তথ্যের অসংগতি দেখতে পান।

আতিকুর রহমানের পাসপোর্টে বাবার নাম হিসাবে মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তি হিসাবেও হেলাল উদ্দিনের নাম এবং সম্পর্কের ঘরে ‘বাবা’ লেখা আছে। দুই পাসপোর্টে ঠিকানা হিসাবে শরীয়তপুরের নড়িয়ার নবগ্রামের একই ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নাজমুল ফকির অপুর পাসপোর্টে বাবা হিসাবে মোহাম্মদ শাবুর মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকার কদমতলীর ৯৯০ পশ্চিম মোহাম্মদবাগ। অপুর জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তিও শাবুর মিয়া এবং সম্পর্কের ঘরে ‘বাবা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বয়সের তথ্যও যাচাই করা হয়। এ সময় তাদের বয়সের তথ্যেও বড় পার্থক্য পান কর্মকর্তারা। হেলাল উদ্দিনের পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৭৭ সালের ১২ মার্চ, আর আতিকুর রহমানের জন্ম ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি। অন্যদিকে শাবুর মিয়ার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং অপুর জন্ম ২০০৭ সালের ১২ মার্চ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অপারেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, ইমিগ্রেশন কাউন্টারে হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়া দুই তরুণকে নিজেদের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ছাড়ার ছাড়পত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পাসপোর্টের তথ্যের অসংগতি ধরা পড়ায় দেশ ছাড়ার আগেই চারজনকে আটক করা হয়।

বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, হেলাল উদ্দিন ও শাবুর মিয়ার বিদেশ ভ্রমণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে দুই তরুণকে কী উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হচ্ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত মানব পাচার হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।