মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে দেড় মণ ওজনের ঘণ্টা কীভাবে চুরি হলো

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ে সেইন্ট ক্রিস্টিনা চার্চের দোতলার খোলা জায়গা থেকে পিতলের একটি ভারী ঘণ্টা চুরি হয়েছে। চার্চ কর্তৃপক্ষের হিসাবে এর ওজন ৫৫ থেকে ৬০ কেজি, পুলিশের হিসাবে প্রায় ৭০ কেজি। চুরির কয়েক ঘণ্টা পর জাকির হোসেন রোডের একটি ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চার্চে গিয়ে বিষয়টি প্রথম বুঝতে পারেন পাল-পুরোহিত ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ। তিনি দেখতে পান, সামনের ছোট গেটটি তালাবিহীন ও ভেড়ানো অবস্থায়। ওপরে তাকিয়ে দেখেন, দোতলায় থাকা ঘণ্টাটি নেই।

ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ বলেন, পরে চার্চের সবকিছু পরীক্ষা করে দেখা যায়, সিসিটিভি ক্যামেরায় রাত ১২টার পর আর কোনো রেকর্ড নেই। এরপর তারা মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা ৩ মিনিটের পর কোনো এক সময় চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি নিয়ে যায়। ওই সময়ের পর চার্চের সিসিটিভি রেকর্ডিংও বন্ধ ছিল। ঘটনাস্থলের সরাসরি ফুটেজ না পাওয়ায় আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করার পর চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি পাওয়া যায়। এটি এখন থানা হেফাজতে রয়েছে।

চুরিও হওয়া ঘণ্টা ও চার্চের ফাদার কাজল গোমেজ

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। চার্চ কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে। সিসিটিভি রেকর্ডিং কেন বন্ধ ছিল, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। চার্চের কেউ এটি বন্ধ করেছে, নাকি অন্য কেউ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঘণ্টাটি কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার কিছু চিহ্নও পেয়েছে চার্চ কর্তৃপক্ষ। চার্চের কেয়ারটেকারের দায়িত্বে থাকা এক তরুণ জানান, চোর বা চোরেরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে। সামনের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তারা একদিক দিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলেও সেখানে তালা থাকায় অন্যদিক দিয়ে বারান্দায় ওঠে।

ওই তরুণের ভাষ্য, ওপরে ওঠার জায়গায় হাতের ছাপ ও কাদার দাগ পাওয়া গেছে। এরপর চোরেরা ঘণ্টাটি যেখানে রাখা ছিল সেখানে যায়। ঘণ্টাটি অনেক উঁচুতে বাঁধা ছিল। সেটি নামাতে তারা ঘণ্টার জন্য রাখা মোটা দড়ি ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ বলেন, এত ভারী ঘণ্টা এত ওপর থেকে নামানো সহজ নয়। তার ধারণা, তিন-চারজন না হলে চোরেরা এটি নামাতে পারত না। ঘটনাস্থলে হাতের ছাপও পাওয়া গেছে।

চার্চে থাকা ওই তরুণ বলেন, ঘণ্টাটি পুরোপুরি পিতলের এবং ওজন প্রায় ৭০ কেজি। এত উঁচু জায়গা থেকে কীভাবে সেটি নামানো হয়েছে, তা নিয়ে তারা অবাক হয়েছেন।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত আলামত ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।