মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রবেশ করতে গেলে সাংবাদিকদের আটকে দেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশের এক এসআই বলেন,‘‘কোনও কথা বলবো না।’’ এ বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য জানতে ফোন করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এরআগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অষ্টম তলায় অবস্থিত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে তোলা হয়। তাকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।
এদিকে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হবে জেনে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহে আদালতে আসেন। তবে আদালতের নিচে থেকেই পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন। পরে সেখান থেকে অষ্টম তলায় উঠতে পারলেও আদালত কক্ষে প্রবেশ পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের আটকে দেন।
এরই মাঝে আখতারুজ্জামানের রিমান্ড বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আখতারুজ্জামানের পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন আখতারুজ্জামানও। শুনানি নিয়ে আদালত তার এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে এজলাস থেকে নামানো হয়।
এজলাস থেকে বের করে দেওয়া স্টার নিউজের সাংবাদিক তসলিম হোসেন রনি বলেন,‘‘আক্তারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার আগেই সাড়ে ১২টায় আদালতে আসি। আমি এজলাসে অবস্থান করি। আক্তারুজ্জামানকে পৌনে ১টার দিকে এজলাসে তোলা হয়। তখন ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এসে বলেন, ‘‘আপনাকে বাইরে যেতে হবে। আদালতের ভেতরে থাকতে পারবেন না। কারণ জানতে চাইলে বলেন, এটা আদালতের আদেশ।’’
সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ডিসি মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
শুনানি শেষে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন,‘‘আজকে ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক, আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় ঢুকতে দেননি। আমি মনে করি, এটা নিন্দনীয় ঘটনা। কোনও কিছু গোপন করার জন্য সাংবাদিকদের বিধিনিষেধ দিয়েছেন কিনা, সেটাও আমি জানি না। আগামীতে যেনো এভাবে না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’ তিনি বলেন,‘‘এত তারাতাড়ি কোনও মামলার শুনানিও হয় না। বন্ধের দিন সাধারণত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটায় শুনানি হয়।’’ প্রসিকিউশন এবং পিপির আদালতে আগে আসার সমালোচনা করে বলেন,‘‘কেন তারা আদালতে আগে আসেন, এটা আমার বোধগম্য নয়।’’ শুনানিতে তিনি আখতারুজ্জামান ‘সুন্দর’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘‘সাংবাদিকরা ওখানে থাকলে ভালো হতো।’’
তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের আদালতে ঢুকতে দেওয়ার ব্যাপারে ডিসি প্রসিকিউশন কোনও বাধা দেয়নি। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। শুনানিতে আসামির যে মারমুখী অবস্থান। প্রসিকিউশন, বিচারক ও পুলিশের ওপরে তার যে মারমুখী অবস্থা ছিল এবং তিনি নিজেই বলছে যে, আইনজীবী ছাড়া যেন কেউ আদালতে না থাকে। মূলত তার এই বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেই বিচারক সবাইকে বের হতে বলেন।’’