আসামিরা বিদেশে থাকা সত্ত্বেও আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় কেন?

কোনও আসামি বিদেশে আছেন জানা সত্ত্বেও আদালত তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনেও রয়েছে নানান প্রশ্ন। কিন্তু এখানেও রয়েছে কিছু আইনগত কারণ, যা অনুসরণ করার মাধ্যমেই মূলত কোনও আসামির বিরুদ্ধে আদালত এমন আদেশ দিয়ে থাকেন।

আইনের পরিভাষায়, কোনও আসামি বিদেশে অবস্থান করলেও আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— তিনি বাংলাদেশে ফিরলে যেন আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা যায় এবং দেশে থাকা আসামিরা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ৬ অনুচ্ছেদে আদালতের আদেশের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির দেশত্যাগ ঠেকানো এবং প্রয়োজনে পাসপোর্ট বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশ যাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হলেও এটি নিরঙ্কুশ নয়। আপিল বিভাগ বলেছেন, আইনের ভিত্তি ছাড়া নির্বাহী আদেশে চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করা অসাংবিধানিক; আবার কোনও ফৌজদারি মামলায় ব্যক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন হলে আইনের অধীনে ভ্রমণে যুক্তিসংগত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

তাই বিদেশে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা’ কার্যত তাকে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আদেশ নয়; বরং তিনি দেশে প্রবেশ করলে যেন আটক বা আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন— সেটি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেও এমন আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া যেহেতু প্রতিটি মামলায় আসামিদের বিচার ভিন্ন ভিন্নভাবে হয়ে থাকে সেহেতু নতুন মামলায় তার অবস্থান আদালতের কাছে জানা থাকুক বা নাই থাকুক— নতুন মামলায় পৃথক আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে তার প্রতি নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়।