সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় জামিনের পর নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেন।
গেলো ১১ মার্চ সকালে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা- ২০২৬’ নামে একটি কর্মসূচি পালনের সময় তাকে ধরে নিয়ে যায় পল্টন থানার পুলিশ। এরপর পল্টন মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় সম্প্রতি তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।
গত ১ অক্টোবর পল্টন মডেল থানার আরেক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ওই থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার। এদিন শুনানিকালে জামাল উদ্দীনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেফতার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। দুইপক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়।
জামাল উদ্দীনের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘পল্টন মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান জামাল উদ্দীন। জামিননামা কারাগারে পাঠানোর পর ওই থানার আরেকটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন আসে। আজ তাকে গ্রেফতার দেখানো হলো।’
জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা থাকার তথ্য দিয়েছেন খায়ের উদ্দিন শিকদার।
মামলার বিবরণ থেকে, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা ঢাকার গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে সমবেত হন। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওইদিনই পল্টন মডেল থানা পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে।