মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগার থেকে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একা নিয়ে আসাকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন তার আইনজীবী নাজনীন নাহার। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাজনীন নাহার বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে শুধু একটি গাড়ি তথা প্রিজনভ্যানে করে আনা-নেওয়া হয়। এভাবে আনা-নেওয়াকে আমি গভীর ষড়যন্ত্র মনে করছি। অর্থাৎ তাকে যেন একা একটি গাড়িতে না এনে অন্যান্য বন্দির সঙ্গে আনা হয়, সেজন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছি আমরা। বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন আদালত। তবে এখনও কোনও আদেশ পাইনি।
আইনজীবী বলেন, কখনও কখনও কোনও আন্দোলন করার জন্য বাংলাদেশে কাউকে কাউকে টার্গেট করা হয়। কাউকে কাউকে বলির পাঠা বানানো হয়। জিয়াউলও তেমন একজন মানুষ। তাকে টার্গেট হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সব কিছুতে তার নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কারণ তার নাম যুক্ত করলে সবার জন্য খুবই উপকার হয়।
জিয়াউলের হয়ে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন আমরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে করেছি। তখন থেকে এ নিয়োগের জন্য বার কাউন্সিলের একটি আবেদন করতে হয়। তবে এখন পর্যন্ত বার কাউন্সিল কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি। সেই সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য আমরা ট্রাইব্যুনালেও একটি আবেদন করেছি। পরে তাদের নির্দিষ্ট সময় দিয়েছেন আদালত।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি এ মামলার ১৫তম সাক্ষী। এরইমধ্যে ট্রাইব্যুনালের সামনে ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা।