অ্যাকশনে গেলে বদলি পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে কে?

অপরাধী ধরতে অভিযানে নামছে পুলিশ। কিন্তু সেই অভিযানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কারও নাম জড়িয়ে গেলে, কিংবা ক্ষমতাসীন দলের কোনও নেতার আপত্তি উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলি বা প্রত্যাহারের ঘটনা সামনে আসছে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিতে গিয়ে যদি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থল হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটি কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে? চট্টগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত এক নেতাকে গ্রেফতারের অভিযানের পরদিনই থানার ওসিকে বদলির ঘটনায় সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, বদলি সরকারি চাকরির নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, এটি কোনও শাস্তি নয়। তবে অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের কারণে রাজনৈতিক চাপের মুখে কোনও কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর নয়, পুরো বাহিনীর পেশাদারত্ব ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর পড়তে পারে। এতে অপরাধ দমনে পুলিশের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের বদলি প্রশাসনিক বিষয় হলেও এর কারণ ও সময় নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে কোনও আলোচিত অভিযানের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেটি নিয়মিত বদলি, নাকি অন্য কোনও চাপের ফল, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অন্যথায়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

চট্টগ্রামের ঘটনা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এমন একটি ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেফতার করতে গত ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর ভবন এলাকায় অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন মেয়র। ওই কর্মকর্তা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তার বর্তমান পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেয়র দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তবে বগাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা কিংবা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন মেয়র ডা. শাহাদাত।

মেয়রের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে বদলি করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) পদায়ন করা হয়। একই আদেশে আরও কয়েকটি পদে রদবদল আনা হয়। আদেশে বদলিকে জনস্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জনমনে প্রশ্ন ভিন্ন। এর আগে বগাকে গ্রেফতারের অভিযানে তার অনুসারীদের হামলায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে নগর ভবনে অভিযানের সঙ্গে ওসির বদলির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে অভিযানের পরপর বদলির সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বদলি শাস্তি নয়, বলছে পুলিশ

পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের বদলি বা প্রত্যাহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি সায়েদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বদলি কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়। সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর নতুন জায়গায় বদলি হতে পারেন। আবার অনেক সময় বৃহত্তর দায়িত্ব পালনের জন্যও একজন কর্মকর্তাকে অন্যত্র পদায়ন করা হয়। কাজেই বদলি মানেই যে কোনও অনিয়ম বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, বিষয়টি এমন নয়।’’

কোনও এলাকায় সংঘর্ষ কিংবা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হলে বাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কিনা। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা নয়। কারণ, আমরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই জানি যে আমাদের বিভিন্ন সময়ে বদলি হতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।’’

সায়েদুর রহমান বলেন, ‘‘একজন কর্মকর্তা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভালো কাজ করেছেন এবং মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। পরে তার কোনও দায়িত্ব পালনের কারণে যদি তাকে বদলি বা প্রত্যাহারের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মানুষ মনে করতে পারে, একজন ভালো কর্মকর্তা তাদের এলাকা থেকে চলে গেলেন। এ ধরনের ঘটনায় জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অতীতেও দেখা গেছে, কোনও ভালো কর্মকর্তা নিয়মিত বদলির আওতায় অন্যত্র চলে গেলেও স্থানীয় মানুষ তার বদলির বিরোধিতা করেছেন। এমনকি কোনও জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হলে তাকে যেতে না দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তায় নেমে আসার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এগুলো অনেকটাই আবেগের বিষয়। সরকারি চাকরিতে কেউ স্থায়ীভাবে একটি কর্মস্থলে থাকার জন্য আসেন না। বদলি চাকরিরই স্বাভাবিক অংশ।’’

আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘কোনও সরকারি কর্মচারীকে আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’’

তবে পুলিশের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘পুলিশকে যদি তার দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে দেওয়া না হয়, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহল যদি পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। পুলিশের অনেক কর্মকর্তা পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চান। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে তারা বাধাগ্রস্ত হন। বিশেষ করে পদায়ন, বদলি ও পেশাগত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে একজন কর্মকর্তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’’

অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, ‘‘আমরা এখন পর্যন্ত পুলিশকে দলমত নির্বিশেষে স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারিনি। ফলে কোনও কর্মকর্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিংবা পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েন। যারা পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে চান, তাদের কেউ কেউ বদলি, পদায়নবঞ্চনা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন। এ অবস্থায় পুলিশ কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল ও জনআস্থাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে?’’

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু একজন কর্মকর্তার পেশাগত জীবনের বিষয় নয়। বরং পুরো পুলিশ ব্যবস্থার কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা যদি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করেন, তাহলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ সংকট থেকে উত্তরণে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, ‘‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলে আসছি। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। পুলিশকে যদি অতীতের মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বাহিনীটির অবস্থার মৌলিক পরিবর্তন হবে না। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসও অর্জন করা সম্ভব হবে না। আমাদের গবেষণায়ও রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশাগত স্বাধীনতার সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।’’

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুলিশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘‘একটি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হলে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাতেও গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। পুলিশ রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই পুলিশের ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। এর মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে জবাবদিহি, পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা, মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া।’’

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ না দেয়, তাহলে গণতান্ত্রিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়। পুলিশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এবং এর সদস্যরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাদের দায়িত্ব কোনও দল বা সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং রাষ্ট্র, আইন ও জনগণের স্বার্থে কাজ করা।’’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সরকারের সুনামের সম্পর্ক তুলে ধরে এই অপরাধবিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘‘মানুষ নিরাপদে ও শান্তিতে থাকতে পারলে সরকারের প্রতি তাদের সন্তুষ্টি তৈরি হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানেও পড়তে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চান। তারা মনে করেন, পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করলে তাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এই মনোভাবই পুলিশের পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা।’’

‘দলীয় পরিচয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’

এদিকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি বা প্রত্যাহার এবং এসব ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এসব বিষয়ে আমার তেমন ধারণা নেই। তবে সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। মাঝে-মধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও দলীয় পরিচয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।’’

প্রশ্ন পুলিশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের বদলি ও পদায়নের প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই ক্ষমতার প্রয়োগ যেন আইনানুগ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে রাজনৈতিক চাপের কারণে কোনও কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বাহিনীর পেশাগত পরিবেশে।