দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতে নজরুল ইসলামের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
এর আগে মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে জানিয়ে গত বুধবারও নজরুল ইসলামের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। সে সময় মরিয়মের বাবার সঙ্গে আসামিপক্ষের আপসের কথা জানিয়ে জামিনে বাদীপক্ষের আপত্তি নেই বলে দাবি করা হয়। পরে আদালত মাকছুদা ইসলামকে জামিন দিলেও নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২১ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামের আরও এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।