জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বলেন, এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। কারাগারে থাকা তিন আসামির জামিন আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনি করাতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এক ছাত্রীর বাসার নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন জোবায়েদ। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে জানায়, জোবায়েদকে কে বা কারা হত্যা করেছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে খবর দেন।

পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।