নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক এ দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় আলিফ ফকিরকে গুলি করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। আগের হামলার পরও একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং পরবর্তী সময়ে তাকে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক।
আসক মনে করে, একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পথ সংকুচিত হবে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অনুচ্ছেদে যথাক্রমে জীবনের অধিকার এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়েছে। একইভাবে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৬ ও ১৯ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব অধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার কার্যকর তদন্ত ও বিচার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে হত্যা এবং ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনও অবহেলা, প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসক বলেছে, সাংবাদিকেরা যাতে কোনও ধরনের হুমকি বা আশঙ্কা ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনও বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।