নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলিফ স্থানীয় অপরাধ, মাদক কারবার, চোরাচালান, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। আগের হামলার সঙ্গে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস।
সংগঠনটি বলেছে, আগের হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ বা নিরাপত্তার আবেদন করা হয়েছিল কিনা, করা হয়ে থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করা জরুরি। সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আগে থেকে অবগত ছিল কিনা এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির ওপরও গুরুতর আঘাত।
এইচআরএসএসের বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মানুষের জীবন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকতার কারণে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা এসব অধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে।
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, আইনি ও মানসিক সহায়তা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা জনগণের জানার অধিকার, দুর্নীতি ও অপরাধ উন্মোচন এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস। একই সঙ্গে দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।