‘আওয়ামী লীগ কখনও আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যায় না’, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে এ কথা বলেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুমন বলেন, ছাত্রলীগাররাই হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট করেছে। গত ১৭ বছর সুলতান মনসুর ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ কখনও আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যায় না। দল থেকে সরে যায় না। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের গ্রেফতার দেখানোর প্রার্থনা করছি।
আসামিপক্ষে মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের গ্রেফতার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনও অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না। আর এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে না।
এ সময় বিচারকের কাছে আইনগত সহায়তা কামনা করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবির তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মকবুল হোসেন নামে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ভোরে কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। পরে মুশফিকুর রহমান আবির নামে এক বিএনপি কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানার আরেক মামলায় ১৪ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এবার মকবুল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিলেন আদালত।
অপরদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।