‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি সংবলিত একটি পোস্টে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’ এমন মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে সেই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক এই আবেদন করেন।  কিছুক্ষণের মধ্যে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট জিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 
 
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিন জনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার, এ ঘটনার নেপথ্যে কোনও সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এ ছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামি কোনও সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কোনও চক্র বা মাস্টার মাইন্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও বলা হয়, আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামতের পাশাপাশি অন্য কোনও ডিভাইস বা ডিজিটাল আলামত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত, উদ্ধার ও জব্দ করা এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তের স্বার্থে আসামিকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। 

এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’ বলে মন্তব্য করা হয়। 

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।