রানা প্লাজা ধস: নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের মামলায় যুক্তিতর্ক ১০ ডিসেম্বর

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের দুদকের আইনজীবী ইসতিয়াক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এদিন মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক অন্য মামলার কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শুনানির তারিখ পিছিয়ে ১০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আদেশ দেন একই আদালত।

সোহেল রানা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এদিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন। এদিন তারা আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ধসের ঘটনা

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত হন এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ঘটনার পর ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক।

২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় শুরুতে সোহেল রানাকে বাদ দিয়ে তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্তে ভবনটির দেখভালে সোহেল রানার ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নকশা অনুমোদন করে সাভার পৌরসভা। ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের কথা থাকলেও পরে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই সময় আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ৮৪৪টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১টি অশনাক্ত মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।