তাহসিফের মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত-জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি এইচআরএসএসের

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ দাবির কথা জানিয়েছে এইচআরএসএস।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার বাসা থেকে বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার পর তাহসিফ নিখোঁজ হন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে পাঠানো ভয়েস মেসেজে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। পরদিন বিকালে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ, ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অসংগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যে পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজনের ধাওয়ার প্রসঙ্গ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া ভিন্ন ব্যাখ্যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পাশাপাশি তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করা, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী গোয়েন্দা নজরদারির অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

সংগঠনটি বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তেজগাঁও বিমানবন্দরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের বহুল আলোচিত ভিডিওটি তাহসিফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রথম প্রচারিত হয়েছিল। তবে তার অতীত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, জীবন রক্ষার অধিকার এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হেফাজতে থাকা ব্যক্তির আইনি অধিকার ও নির্যাতনমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এ প্রেক্ষাপটে এইচআরএসএস বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো— তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানাতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, কললিস্ট, মোবাইলের লোকেশনসহ সব ডিজিটাল ও বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ এবং তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

ঘটনার রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো অভিযান বা টহল ছিল কি না, তা প্রকাশ করতে হবে। হেফাজতে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, যথাসময়ে আদালতে হাজির করা এবং নির্যাতনমুক্ত থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।

তদন্তের নামে অযাচাইকৃত তথ্য প্রচার বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্রের মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে। তাহসিফের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে পরিচয় ও পদমর্যাদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এইচআরএসএস মনে করে, একটি রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের বিকল্প নেই। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতা।