যৌন হয়রানির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না: বিসিবির আইনজীবী

যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কখনোই প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বোর্ডের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান। তিনি বলেছেন, যৌন হয়রানিসংক্রান্ত তদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি গোপনীয় দলিল হিসেবে বিবেচিত। বিসিবির যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালায় এসব তথ্য প্রকাশের অনুমতি নেই।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কেন তা প্রকাশ করা হয়নি, গণমাধ্যমে এমন প্রশ্ন এসেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিসিবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে। ওই নীতিমালায় যৌন হয়রানিসংক্রান্ত তদন্তের উপকরণ ও প্রতিবেদন গণমাধ্যম বা জনসমক্ষে প্রকাশ না করার নির্দেশনা রয়েছে। এগুলো গোপনীয় দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, তদন্তের সময় অনেক ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ তথ্য প্রকাশ পায়। এতে ভুক্তভোগীসহ অনেক সাক্ষীও যুক্ত থাকেন। এসব সংবেদনশীল তথ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার রয়েছে।

বিসিবির আইনজীবী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছিল। তখন পর্যন্ত বিসিবি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা গ্রহণ করেনি। তদন্ত কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে নীতিমালাটি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। পরে ২০২৬ সালের আগস্টে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালাটি গ্রহণ ও প্রকাশ করে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিসিবির ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে একজন নারী কর্মীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার কাছে নারী ক্রিকেটার ও বিসিবির নারী কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ জানাতে পারবেন।

জাহানারা আলমের অভিযোগের বিষয়ে মাহিন এম রহমান বলেন, জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটি গণমাধ্যমে আসার পর বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। জাহানারা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্ত কমিটি সেসব অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এরপর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মঞ্জুরুল আলমকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিসিবিসংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে তিনি আর অংশ নিতে পারবেন না।

মঞ্জুরুল আলমের করা রিটের বিষয়ে বিসিবির আইনজীবী বলেন, আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আলম পৃথক দুটি রিট আবেদন করেছিলেন। উভয় মামলায় বিসিবির পক্ষে আইনজীবীরা অংশ নিয়ে আবেদনগুলোর বিরোধিতা করেন। হাইকোর্ট বিভাগের দুটি পৃথক বেঞ্চই রিট আবেদন খারিজ করে দেন। শুনানির সময় বিসিবির পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেন।

ভবিষ্যতে আরেকটি মামলার বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হবে বলে জানান মাহিন এম রহমান। তিনি বলেন, একজন নারী অ্যাথলেট যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়ে রিট আবেদন করেছেন। ওই মামলায় বিসিবিকেও পক্ষ করা হয়েছে এবং রুল বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলাতেও তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিসিবির নেওয়া পদক্ষেপগুলো আদালতকে জানানো হবে।