এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দিলীপ আগরওয়ালা, রিমান্ড মঞ্জুর

এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। আর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা রিমান্ডের তথ্য জানান।

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিন করেন। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে আনোয়ারুল কবীর বাবুল, জাকারিয়া হায়দারসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত দিলীপ কুমার আগরওয়ালার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ওই ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ চোরাচালানের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২১ অক্টোবর এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন একই আদালত। এরপর জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২ নভেম্বর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায়ও তাকে গ্রেলতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।