যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত দলীয় বাছাইপর্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজ-এর বিরুদ্ধে জয় পান ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দৌড় থেকে ছিটকে পড়লেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজ। তিনি নিজ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আর কোনও বাধা থাকছে না। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রাইমারি ও ককাস নামের দুইটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সেখানে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রাইমারি হচ্ছে প্রথাগত নির্বাচন, যেখানে দিনব্যাপী গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর ককাস হচ্ছে দলের নিবন্ধিত ভোটার ও কর্মীদের সভা, যা পূর্বনির্ধারিত দিন ও ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। কোনও কোনও অঙ্গরাজ্যে শুধু প্রাইমারি নির্বাচন হয়, আবার কোনও রাজ্যে শুধু ককাস নির্বাচন হয়। আবার কোনও রাজ্যে প্রাইমারি ও ককাস দুটিই হয়।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে প্রাইমারি বাছাই হয়। এ অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান টেড ক্রুজ। রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা ট্রাম্পের মনোনয়ন ঠেকানোর ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ানাই ছিল টেড ক্রুজের বড় সুযোগ। তারা সেই চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। এমন অবস্থায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ক্রুজ। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমত সব করেছি। কিন্তু ভোটাররা অন্য পথ বেছে নিয়েছেন।’
ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত কেন?
ক্রুজের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা পেতে যাচ্ছেন, সে ব্যাপারটি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। কেননা, রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে অন্তত ১২৩৭ ডেলিগেটসের সমর্থন পেতে হয়। আর ট্রাম্প এরইমধ্যে ১০৪৭ জন ডেলিগেটসের সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে ক্রুজ সরে দাঁড়ানোর পর ট্রাম্পের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এখন কাসিক যিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫৩ জন ডেলিগেটসের সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছেন। মনোনয়নের জন্য ট্রাম্পের আর মাত্র ১৯০ ডেলিগেটসের সমর্থন প্রয়োজন। বিপরীতে কাসিকের প্রয়োজন ১০৮৪ জন ডেলিগেটসের সমর্থন। এখনও ৫২০ ডেলিগেটসের সমর্থন দেওয়া বাকি। সেদিক থেকে কাসিকের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
বিভিন্ন সময়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কারণে নিজ দল রিপাবলিকানের অনেক সদস্যের কাছেই ট্রাম্প আস্থাভাজন নন। বিভিন্ন সময়ে টেড ক্রুজকেও আক্রমণ করে কথা বলেছেন তিনি। তবে মঙ্গলবার টেড ক্রুজের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসার পর দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। এদিন ক্রুজকে একজন শক্ত আর চৌকস প্রতিদ্বন্দ্বী বলে বর্ণনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচন সাধারণত সরাসরি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ার পরিবর্তে তারা নির্ধারণ করেন যে, প্রতিটি দলের কনভেনশনে দলের কোন প্রার্থী কতজন ডেলিগেট সংগ্রহ করতে পারলেন। এবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ১৪ জুন। চূড়ান্ত দলীয় কনভেনশনে ওই ডেলিগেটদের ভোটেই চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
/এমপি/