ইয়াসিন আল-আত্তাস জানান, বিনলাদিন কোম্পানি ১০ হাজার কর্মচারীকে বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে। চাকরিচ্যুত অপর কর্মচারীরাও তাদের বকেয়া বেতন পাবেন। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার শুরু করায় কোম্পানিটি ধীরে ধীরে আগের সক্ষমতা অর্জন করছে এবং শিগগিরই পুনরায় চালু হবে।
আরও পড়ুন: নাউরুতে বাংলাদেশি শরণার্থীর মৃত্যু
আল-আত্তাস আরও জানান, সরকার তাদের (কন্ট্রাকটর) পাওনা বেতনও পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবশ্য চাকরিচ্যুত কতজন কর্মচারীকে বকেয়া বেতন দেওয়া হবে তা জানাননি আল-আত্তাস।
বিনলাদিন কোম্পানিতে প্রায় ৬৯ হাজার প্রবাসী শ্রমিক কাজ করতেন। তাদের সবাইকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
কোম্পানির মুখপাত্র জানান, চাকরিচ্যুত ৬৯ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের মধ্যে ৩৪ হাজার জনকে বকেয়া বেতন দেওয়া হয়েছে এবং নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাকি শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজারকে অন্য কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়েছে অথবা তারা পদত্যাগ করেছেন। অবশিষ্ট ১৫ হাজারের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
আরও পড়ুন: চীনকে নিয়ে রানির ক্ষুব্ধ মন্তব্য, পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা
উল্লেখ্য, দ্য সৌদি বিনলাদিন গ্রুপ ১৯৩১ সালে গঠন করেন শেখ মুহাম্মদ বিন লাদেন। তিনি আল-কায়েদার সাবেক প্রধান নিহত ওসামা বিন লাদেনের বাবা। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ আল-সউদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে দেশটির বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করে আসছে। ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে সংস্কার কাজ চলার সময় প্রতিষ্ঠানটির একটি ক্রেন ভেঙে পড়লে ১১৮ জন নিহত ও আরও অন্তত ৪০০জন মানুষ আহত হন। এ ঘটনার পর সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠানটি কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন সৌদি আরবের রাজা। নিষেধাজ্ঞার পর কোম্পানিতে কর্মরত ৮০ হাজারেরও বেশি কর্মচারী ও শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সম্প্রতি সৌদি সরকার কোম্পানিটির ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।
এদিকে, সৌদি আরবের আরেকটি বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সৌদি ওগার লিমিটেডের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বেতন না দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। দেশটির শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রী মুফারেজ আল-হাক্কানি দাবি করেন, বিষয়টি এখনও গুরুতর কিছু নয়। তিনি বলেন, এখনও আমাদের দেশে প্রবাসী শ্রমিকরা আসছেন। দুটি ঘটনা দিয়ে সৌদি আরবের শ্রম বাজারের পরিস্থিতিকে আখ্যায়িত করা ঠিক হবে না।
/এএ/