দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

পাকিস্তানে ড্রোন হামলা: মার্কিন নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

পাকিস্তানের বালুচিস্তানে তালেবান প্রধানকে ড্রোন হামলায় হত্যার ঘটনা মার্কিন নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আল-কায়েদার সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও এবারের ড্রোন হামলার বিষয়ে পাকিস্তানকে কিছুই জানানো হয়নি। সোমবার অন্যতম মার্কিন দৈনিক পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস খবরটি অন্যতম প্রধান শিরোনাম প্রতিবেদন হিসেবে প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছে।

শনিবার আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হয়েছেন। একটি গাড়িতে থাকা মনসুর ও তার এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর এটিই পাকিস্তানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।

পাকিস্তান, আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে মনসুর নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলার কথা জানালেও মোল্লা মনসুর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেনি। তালেবান নেতারাও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে মোল্লা নিহত না হলেও পাকিস্তানে চালানো ড্রোন হামলাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তালেবান সদর দফতর বালুচিস্তানে এটাই প্রথম মার্কিন ড্রোন হামলা।  মোল্লা মনসুরের মৃত্যুতে তালেবানকে এক বছরের মধ্যে আবারও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

বালুচিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলার মধ্য দিয়ে ওবামা প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। এ ড্রোন হামলার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি। যদিও এর আগে, পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী তালেবানদের বিরুদ্ধে সিআইএ-এর গোপন অভিযানে সহযোগিতা করে আসছে। তবে বালুচিস্তানের উপজাতি এলাকায় আল-কায়েদা ও পাকিস্তানি তালেবানদের বিষয়ে ড্রোন হামলার জন্য গোয়েন্দা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান।

সাবেক এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, তালেবানদের নাশকতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানের প্রতি ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এ ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়ে পাকিস্তানকে কিছুই জানায়নি।

কিন্তু শনিবারের ড্রোন হামলার আগ পর্যন্ত মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করে এমন পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে খারিজ করে আসছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আফগান সরকারকে নিয়ে তালেবানদের সঙ্গে যৌথ শান্তি আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শনিবার বালুচিস্তানে ড্রোন হামলার পরই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন পরিচয় প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের ক্ষেত্রেও হামলার পর পাকিস্তানকে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা মোল্লা মনসুরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অনুমতি দেন। পাকিস্তান, চীন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার ধারাবাহিক উদ্যোগের পরও মোল্লা মনসুর হামলা জোরদার করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

 

/এএ/