ডন

মোল্লা মানসুর আলোচনার বিরোধী ছিলেন না: নিসার

আফগান তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা আখতার মানসুর নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বিনা অনুমতিতে নিজ ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান বলেছেন, আফগান তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা আখতার মনসুর আলোচনার বিরোধী ছিলেন না। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।

আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানদের আলোচনায় মোল্লা আখতার মনসুর মূল বাধা বলে যে প্রচারণা রয়েছে সংবাদ সম্মেলনে তা নাকচ করে দেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মোল্লা আখতার মনসুর না চাইলে কাবুলের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা হতো না।

এদিকে মোল্লা আখতার মনসুরের মৃত্যুর পর নতুন শীর্ষ নেতা নির্বাচন করেছে আফগান তালেবান। মোল্লা মনসুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা হাবিবুল্লাহ আখন্দজাদাকে নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। ২৫ মে ২০১৬ বুধবার তালেবানের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হয়ে মোল্লা হাবিবুল্লাহ আখন্দজাদাকে নতুন নেতা নির্বাচন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকটি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Dawn

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মোল্লা হাবিবুল্লাহ আখন্দজাদার সহযোগী হিসেবে সাবেক বিচার প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এবং সাবেক নেতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুবকে নির্বাচিত করা হয়। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান।

ওই বিবৃতিতে মোল্লা মনসুরের নিহত হওয়ার কথাও নিশ্চিত করা হয়। ২১ মে ২০১৬ শনিবার আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি গাড়িতে থাকা মনসুর ও তার এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হন।

তালেবানের নতুন শীর্ষ নেতার সহযোগী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির মাথার দাম হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ লাখ ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা আছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, হাক্কানি তালেবানের প্রধান নির্বাচিত হলে আফগান সরকারি বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর প্রতি বিদ্রোহীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

হাক্কানিকে আফগান বিদ্রোহীদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধবাজ নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা। গত মাসে কাবুলে চালানো হামলাসহ তালেবানের চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর জন্য হাক্কানিকে দায়ী করা হয়। গত এপ্রিলে কাবুল হামলায় ৬৪ জন নিহত হন।

মনসুরের পর হাক্কানির তালেবান প্রধান হওয়ার সম্ভাবনা তাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি।

২০১১ সালে পাকিস্তানের সামরিক শহর অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর এটিই পাকিস্তানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। এই হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ।

মনসুরের মৃত্যুর পর নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে তালেবানদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে এর বিপরীতে বলা হচ্ছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলা মোকাবিলা করে টিকে থেকে তালেবানরা নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে। তাই মনসুরের মৃত্যুর পরও হয়তো গোষ্ঠীটি এই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সময় নেবে না। সূত্র: ডন।

/এমপি/