দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌযানডুবি

৫৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছে একটি মাছ ধরার নৌযান। এর আরোহীরা সমুদ্রপথে লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে নৌযানটিতে আরোহণ করেছিলেন। বুধবারের এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।

দুর্ঘটনার পর সেখান থেকে ৫৬২ শরণার্থীকে উদ্ধার করে ইতালীয় নৌবাহিনীর ‘বেত্তিকা’ নামের একটি টহল জাহাজ। এ নৌযানডুবির ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির নৌবাহিনী। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাত হয়ে ডুবতে থাকা নৌযানের ডেক থেকে লোকজন পানিতে পড়ে যাচ্ছেন। উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবাই একদিকে জড়ো হওয়ায় নৌযানটির কাত হয়ে যাওয়া আরও ত্বরান্বিত হয়।

লিবিয়া উপকূল থেকে ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা অবস্থায় সেখান থেকে সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে সংকেত পাঠায় নৌযানটি। এরপরই সেখানে ছুটে যায় ‘বেত্তিকা’। এর পাশাপাশি লাইফবোট নিয়ে আসে নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার।

হেলিকপ্টারসহ নৌবাহিনীর সদস্যরা নিখোঁজ ২৩ জনকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের সন্ধান মেলেনি।

ভূমধ্যসাগরে শরণার্থী বা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌযানডুবির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ২২ মে ইউরোপে গমনের উদ্দেশ্যে সাতটি নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় ৮৫০ শরণার্থীকে আটক করে লিবিয়া।

The Daily Telegraph

ওই সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জানান, নৌকায় থাকা শরণার্থীদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। এর মধ্যে ৭৯ জন নারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত এগারো জন গর্ভবতী। রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমের এলাকা সাব্রাথার কাছাকাছি সমুদ্র পথে যাত্রার অনুপোযোগি সাতটি নৌকায় তাদেরকে পাওয়া যায়। এ বছর ইতোমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী লিবিয়া থেকে ইতালিতে পৌঁছেন।

লিবিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে মানবপাচারকারী চক্র দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ হওয়ার কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, লিবিয়া থেকে সাগর পথে ৩০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ইতালির লাম্পেডুসা দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন শরণার্থীরা।

মার্চ মাসে ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভেস লে ড্রায়ান জানান, ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার জন্য অন্তত ৮ লাখ শরণার্থী লিবিয়ায় অপেক্ষা করছেন। এদের বেশির ভাগই সোমালিয়া, সুদান ও ইরিত্রিয়ার নাগরিক।

ইউরোপে শরণার্থীদের স্রোত ঠেকাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার জন্য ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করেছে। চলতি মাসের শুরুতে, ব্রিটিশ সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় মানবপাচার রোধে ইইউর নৌ মিশন ব্যর্থ হয়েছে। নৌ মিশনে কারণে শুধু পাচারকারীরা তাদের কৌশল পাল্টেছেন।

২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সৈকতে ভেসে আসা সিরীয় অভিবাসন-প্রত্যাশী শিশু আয়লান কুর্দির মৃতদেহ দেখে কেঁদে উঠে বিশ্ব বিবেক। বিশ্বজুড়ে মূল ধারার প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমের শিরোনাম হয় আয়লান। কিন্তু এখনও যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপকূলে বা সীমান্তে আরও বহু শিশু জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে এ নৌকাডুবি সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ইউনিসেফ- এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সমুদ্রে তুরস্ক ও গ্রিসের মাঝামাঝি এলাকায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৯০ জন শরণার্থী শিশু। এদের মধ্যে ১৮৫ জনই শিশু। এই শিশুদের অন্তত পাঁচ শতাংশের বয়স দুই বছরের কম।

ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব শিশুদের অধিকাংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে পরিবারের সঙ্গে যাত্রা করেছিল। এদের অধিকাংশের বয়স ১২ বছরের নিচে। সূত্র: দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।

/এমপি/